দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঠান্ডা লাগলেই আইসক্রিম বা ঠান্ডা খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে, এমন ধারণা অনেকেরই। কেউ মনে করেন, ঠান্ডা খাবার খেলে সর্দি আরও বেড়ে যায়, শরীরে কফ বা শ্লেষ্মা বেশি তৈরি হয়, এমনকি ভাইরাসও দ্রুত বাড়তে পারে। তবে এসব ধারণার সবগুলোর পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি নেই।
অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক বাসবরাজ এস কুম্বারের মতে, সাধারণ সর্দি-জ্বর থাকলেই আইসক্রিম বা ঠান্ডা খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। আইসক্রিম খেলে সেই ভাইরাস দ্রুত বংশবিস্তার করে বা সংক্রমণ আরও গুরুতর হয়ে যায়, এমনটা নয়। তবে ঠান্ডা খাবারের প্রতি সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। কারও গলা ব্যথায় ঠান্ডা খাবার সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে গলা আরও খুসখুস করা, কাশি বা নাক বন্ধের অনুভূতি বাড়তে পারে।
পরিমিত আইসক্রিম খাওয়া যাবে
সাধারণভাবে, ঠান্ডা লাগলে পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খাওয়া যায়, যদি দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা না হয়। শুধু ঠান্ডা খাবার খাওয়ার কারণে সাধারণ সর্দি আরও খারাপ হয় না এবং এতে ভাইরাস দ্রুত বাড়ে না।
তবে আইসক্রিম খাওয়ার পর যদি গলা বেশি খারাপ লাগে, কাশি বা নাক বন্ধের অনুভূতি বেড়ে যায়, তাহলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
আইসক্রিমে কি শ্লেষ্মা বাড়ে?
সর্দি-কাশির সময় দুধ বা দুধজাত খাবার খেলে শরীরে শ্লেষ্মা বেশি তৈরি হয়, এমন ধারণাও প্রচলিত। কিন্তু চিকিৎসক কুম্বারের মতে, দুধজাত খাবার শরীরে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরির কারণ, এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
দুধ বা অন্য কোনো দুধজাত খাবার খাওয়ার পর কারও কারও মুখে সাময়িকভাবে পিচ্ছিল বা ঘন ধরনের অনুভূতি হতে পারে। এতে মনে হতে পারে শ্লেষ্মা বেড়ে গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুধজাত খাবারের কারণে শরীর বেশি শ্লেষ্মা তৈরি করছে।
ঠান্ডা খাবারে সবার প্রতিক্রিয়া এক নয়
সর্দি-জ্বরের সময় আইসক্রিম খেলে শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হবে, তার কোনো একক উত্তর নেই। গলা ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা খাবার বা পানীয় কারও কারও সাময়িক আরাম দিতে পারে। ঠান্ডার অনুভূতি কিছু সময়ের জন্য গলা অবশ করে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া কমাতে পারে।
আবার অন্যদের ক্ষেত্রে একই খাবার গলা আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। বাড়তে পারে কাশি বা নাক বন্ধের অনুভূতিও।
চিকিৎসক কুম্বার বলেন, ‘কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঠান্ডা খাবার বা পানীয় গলায় প্রশান্তি দেয় এবং কিছু সময়ের জন্য গলা অবশ হয়ে আসে। তবে একই সময়ে কারও কারও গলা ব্যথা, কাশি ও নাক বন্ধের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে। এমন প্রতিক্রিয়া হলে জোর করে এসব খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই।’
সর্দি হলে আসল গুরুত্ব যেসব বিষয়ে
সর্দি হলে আইসক্রিম এড়িয়ে চলার চেয়ে শরীরে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বর থাকলে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পানি, স্যুপ ও ঝোল শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। গরম তরল গলার অস্বস্তিও সাময়িকভাবে কমাতে পারে। তবে এগুলো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের মূল কারণের চিকিৎসা করে না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ শরীরকে সংক্রমণ থেকে সেরে উঠতে সহায়তা করে।
কখন আইসক্রিম এড়িয়ে চলবেন?
গলা ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া বা গিলতে সমস্যা থাকলে নরম ও তুলনামূলক উষ্ণ খাবার খাওয়াই ভালো হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আইসক্রিম সরাসরি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বাড়ায় না, তবে শরীরের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া দুধজাত খাবার খেলে সাধারণত হজমের সমস্যা হলে অসুস্থ অবস্থায় আইসক্রিম খেলে সেই অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ, ঠান্ডা লাগলেই আইসক্রিম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন নয়। এটি ভাইরাসের বংশবিস্তার বাড়ায় না বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্দি-জ্বরকে খারাপ করে না। তবে আইসক্রিম খাওয়ার পর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক কুম্বারের পরামর্শ, ‘সর্দি হলেই ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, এমন নয়। শরীর কী চাইছে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং যথেষ্ট বিশ্রাম নিন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।’
/অ